গল্পের ছলে ফাইটোলক্কা। পর্ব-১

(গাছ থেকে আসা পারদ ও ফাইটোলক্কা)

গল্পের ছলে ফাইটোলক্কা। পর্ব-১


গল্পের ছলে ফাইটোলক্কা

উদ্ভিজ্জ মার্কারি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জনাব, গফুলা চৌধুরী। সে এমন একটা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, যে ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা, শিক্ষকের ভুলের জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে আন্দোলন করে। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে যাহা বিরল, তাহাই এই ইউনিভার্সিটি ছাত্রদের আবদার, সারারাত ব্যাপী ইউনিভার্সিটি খোলা রাখা তাদের মনের ব্যকুল অভিলাষ। উদ্ভিজ্জ মার্কারি ইউনিভার্সিটি টা যেমন অদ্ভুত , তেমনি ইহার অধ্যাপক গফুলা চৌধুরী সাহেব খুবই আজগুবি ধরনের মানুষ।

শীতের হাত থেকে বাঁচতে, অতিথি পাখি আপন মাতৃভূমি বরফের দেশ ত্যাগ করে, পাড়ি জমায় উষ্ণ অঞ্চলে। কিন্তু মানুষ কি পারে শীতের শীতিলতা থেকে বাঁচতে ভিনদেশে চলে যেতে? এ কথাগুলো আপন মনে ভেবে যাচ্ছে গফুলা চৌধুরী। কারণ শীত আর ঠাণ্ডা তার পরম শত্রু। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মোকাবেলা করা সম্ভব, কিন্তু প্রকৃতি যদি কারো শত্রু হয়ে যায়, তখন কি তার মোকাবেলা করা অতটা সম্ভব? একটু ঠাণ্ডাতেই গফুলা চৌধুরীর শরীরের বিভিন্ন গ্লান্ড আক্রান্ত হয়ে যায়। প্রায় সময় গলার মধ্যে প্রদাহ হইয়া , উভয় পাশের টনসিল ফুলিয়া উঠে। এবং লাল বর্ণ ধারণ করে। পরে উহাতে সাদা সাদা বিন্দু বিন্দু দাগ পড়ে। ওষুধ না খেলে, ক্রমে ঐগুলো মিলিত হইয়া একটি বড় ক্ষতে পরিণত হয়। ইহার তীব্রকর বেদনা কান পর্যন্ত প্রসারিত হয়। জনাব গফুলা চৌধুরীর ব্যথার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, বেদনা আক্রান্ত অঙ্গের বাহিরের দিক দিয়ে বেদনা সঞ্চারিত হয়। গরম কিছু খেলে সহ্য হয় না। ঠান্ডায় উপশম হয়। টনসিল প্রদাহ সাথে সমস্ত শরীরে আঘাত লাগার ন্যায় বেদনা করে, অস্থিরতা প্রকাশ করে, কিন্তু নড়াচড়া করলে যন্ত্রণার বৃদ্ধি হয়। কিছু গিলতে গেলে জিহ্বার মূলদেশে অত্যন্ত বেদনা হয়। কখনো এত জালা যুক্ত বেদনা হয় যে, মনে হয় সেখানে আগুনের অঙ্গার রয়েছে।

শিক্ষকতা পেশায় যারা কাজ করেন, তাদের হতে হয় বাকপটু ও বাচাল। মাঝে মাঝে তাদের বিভিন্ন বক্তৃতাও দিতে হয়, বকাবকিই তাদের পেশা। একটি জটিল বিষয় কে, কত সহজ সরল ভাষায় ও সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করা যায়, ইহাই শিক্ষকদের সার্থকতা। জনাব গফুলা চৌধুরী সাহেব অধ্যাপক হওয়াতে বিভিন্ন সময় বক্তৃতা দিতে হয়, অনেক সময় অতিরিক্ত বক্তৃতা দেওয়ার ফলে তার স্বরভঙ্গ দেখা দেয়। স্বরভঙ্গের সময় তার গলার মধ্যে গরম কিছু থাকার ন্যায় জ্বালা করে। 

জনাব গফুলা চৌধুরীর একমাত্র জীবনসঙ্গিনী, মিসেস গফুলা চৌধুরী। জীবনের সঙ্গী হলে কি ,রোগেরও সঙ্গী হতে হবে এমন কোন কথা আছে? খুবই বিচিত্র ব্যাপার হলো! জনাব গফুলা চৌধুরী ও জনাবা গফুলা চৌধুরীর রোগগুলোও যেন একে অপরের সঙ্গী। একই প্রকৃতির ব্যাধি। মিসেস গফুলা চৌধুরীও ঠাণ্ডা কিছুতেই সহ্য হয় না। ঠাণ্ডা শরীরের বিভিন্ন গ্লান্ড কে আক্রমণ করে বসে। বিশেষত.........


(গল্পের ছলে মেটিরিয়া মেডিকা থেকে ফাইটোলক্কা এর কিছু অংশ)।   ( কেমন হয়েছে জানাবেন??, ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন)


#মহি

No comments

Powered by Blogger.